বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা দেশটির রাজনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এমনকি, ত্রিপুরার এক রাজনীতিবিদ তো ‘বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার’ও আহ্বান জানিয়েছেন। মন্তব্যটি করেছেন ত্রিপুরার দ্বিতীয় বৃহত্তম দল টিপরা মোথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ মাণিক্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের সদস্য মাণিক্য পরামর্শ দিয়েছেন, দিল্লি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘শত শত কোটি টাকা খরচ’ না করে বরং বাংলাদেশের সেই অংশগুলো দখল করে নিক, যা ‘সব সময়ই ভারতের অংশ হতে চেয়েছে।’
মাণিক্য আরও বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং তাদের মঙ্গলের জন্য এটি ব্যবহার করা উচিত।’ তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা যদি বাংলাদেশকে ভেঙে নিজেদের জন্য সমুদ্রপথ তৈরি করি, তাহলে সেটা হয়তো আরও সুবিধাজনক হবে। কারণ, এ রকম চ্যালেঞ্জিং এবং ব্যয়বহুল প্রকৌশল পরিকল্পনায় বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা খরচ করার দরকার পড়বে না।’
প্রদ্যোৎ মাণিক্যের পোস্ট রাজনৈতিক মহলে বেশ সমালোচনার জন্ম দিলেও তিনি তাঁর অবস্থানে অবিচল ছিলেন। তিনি বলেন ‘বাংলাদেশ কখনোই আমাদের বন্ধু ছিল না…তাই আসুন আমরা বোকা না হই।’ তিনি বলেন, সেই দেশে ভারতের একমাত্র ‘বন্ধু’ ছিলেন প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমান।
টিপরা জাতির এই নেতা বলেন, ‘আসুন আমরা নিজেদের বোকা না বানাই…আমি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাস করি এবং আমরা প্রতিদিন স্পষ্ট ও উপস্থিত বিপদ দেখতে পাই। আমি বুঝতে পারছি, আপনার বামপন্থী ঝোঁক এটিকে কঠিন করে তোলেন…তবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও উপলব্ধি করুন।’
মাণিক্যের এই মন্তব্য মূল আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যের সম্প্রসারণ। বিশ্বশর্মা ড. ইউনূসের মন্তব্যকে ‘আপত্তিজনক’ ও ‘তীব্র নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।