etcnews
ঢাকাWednesday , 7 October 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

নিষেধাজ্ঞার আগে ভোলায় শত ট্রলার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি

etcnews
October 7, 2026 1:41 pm
Link Copied!

মো.ফাহিম,চরফ্যাশন(ভোলা) প্রতিনিধি :

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ে নদী ও সাগরে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। তবে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই ভোলার চরফ্যাশন উপকূলে শত শত মাছ ধরার ট্রলার গোপনে নদী ও সাগরে পাঠানোর প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, দাদনের টাকা আদায়ের চাপকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির আড়তদার ও মহাজন জেলেদের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ ধরতে উৎসাহিত করছেন।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চরফ্যাশনে জেলের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার। এর মধ্যে সরকারি নিবন্ধিত ৪৪ হাজার ২৮১ জন এবং অনিবন্ধিত প্রায় ৪৬ হাজার। সমুদ্রগামী নিবন্ধিত ট্রলারের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৫টি।

স্থানীয় জেলে ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও সাগরে ট্রলার সচল রাখার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘাটের পাশাপাশি মাঝনদীতে ট্রলারে করে বরফ ও জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, সামরাজ, নতুন স্লুইস, খেজুরগাছিয়া, ঢালচর, মাইনউদ্দিসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগমুহূর্তে কিছু ট্রলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার দুর্গম মোহনা এবং সাগরের গভীর এলাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ট্রলার নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় সেখানে অবস্থান করে মাছ শিকার করতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময় ঘাট থেকে সরাসরি বরফ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় একটি চক্র ভাসমানভাবে বরফ সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রলারে করে বরফ মাঝনদীতে নিয়ে গিয়ে মাছ ধরার ট্রলারগুলোর কাছে সরবরাহ করার পাশাপাশি জ্বালানি তেল পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উপকূলের জেলেদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে মাছ কম পাওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এর সঙ্গে রয়েছে মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের চাপ। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এই চাপ অনেক জেলেকে ঝুঁকি নিতে বাধ্য করতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।

সামরাজ মৎস্যঘাটের আড়তদার হেলাল উদ্দিন টিপু অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সামরাজ ঘাটের ৯৮ জন আড়তদার প্রায় দেড় শ কোটি টাকা দাদন হিসেবে বিনিয়োগ করেছেন। নদীতে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তেলের খরচও উঠছে না এবং আড়তদারেরা লোকসানে আছেন। তবে তাঁরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে বলেন, ‘আড়তদারের কাছ থেকে দাদন নেওয়া জেলেরা অনেক সময় ঋণের চাপে পড়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নদীতে যেতে বাধ্য হন। এ সুযোগে কিছু আড়তদার নিজেদের দায় এড়িয়ে জেলেদের সামনে ঠেলে দিতে পারেন।’

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার আগে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও শুধু ঘাটকেন্দ্রিক তৎপরতা দিয়ে অবৈধ মাছ শিকার ঠেকানো কঠিন। তাঁদের মতে, ঘাটের পাশাপাশি বরফকল, জ্বালানি সরবরাহ এবং মাঝনদীতে বরফ ও জ্বালানি পরিবহনকারী ট্রলারের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর নদী ও সাগরের দুর্গম এলাকায় নৌযান চলাচল এবং সন্দেহজনক ট্রলারের ওপর যৌথ নজরদারি জোরদার করা হলে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের সুযোগ কমবে।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো অবস্থাতেই কাউকে আইন অমান্য করতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে স্থানীয় বরফকলগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হবে, যাতে নদী বা সাগরে বরফ সরবরাহের কোনো সুযোগ না থাকে। পাশাপাশি মাঝনদীতে বরফ বিক্রি বা গোপনে ট্রলারে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে যৌথ টহল জোরদার থাকবে। কেউ গোপনে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে বা জেলেদের বাধ্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়ে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে মা ইলিশ রক্ষায় নদী ও সাগরে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে কোনো পক্ষ যাতে অবৈধ বাণিজ্য করতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।