অলি রহমান,বাগেরহাট প্রতিনিধি:
সুন্দরবনে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। গত দুই দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২১ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শনিবার দিবাগত রাতে ভাসা, আমবাড়িয়া ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকা থেকে ১৫ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুন্দরবনে জেলে ও মহাজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের ভাসা, আমবাড়িয়া ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরারত জেলেদের ওপর অজ্ঞাতপরিচয়ের বনদস্যুরা হামলা চালায়। তারা নৌকা থেকে একে একে ১৫ জেলেকে তুলে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ১০ জেলের নাম জানা গেছে।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—আরিফ, সগীর, মিঠু, ফেরদৌস, ইব্রাহিম, ইমরান, মোস্তাফিজুর, আলামিন, হানিফ ও মারুফ। তাঁদের বাড়ি খুলনা, বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকায়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব জেলে বন বিভাগের পাশ নিয়ে চরপাটা, পোকার জাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিলেন।
অন্যদিকে, মোংলা থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে মহাজন জানান, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের বাগেরহাট এলাকার ভদ্রা নদী থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করেছে। অপহৃত দুই জেলে হলেন মাসুদ ইজারাদার ও ইমদাদুল ইজারাদার।
স্থানীয় জেলে মহাজনদের দাবি, গত দুই দিনে ২১ জন জেলেকে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারে এবং বনদস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর অভিযান দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার এক কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনে জেলে অপহরণের খবর তাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

