etcnews
ঢাকাSaturday , 5 September 2026
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি
box ad 6
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপ, পতনের পথে মার্কিন সাম্রাজ্য!

etcnews
September 5, 2026 10:11 am
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট যেটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলেছেন, তার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে অন্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের বদলে ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক ভুল পদক্ষেপ বিশ্বকে বরং দ্রুত ‘আমেরিকাবিহীন’ একটি নতুন ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন অর্থনীতিবিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জোসেফ ই. স্টিগলিটজ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী কলামে এমন আশঙ্কার কথাই ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত মিত্ররা কেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যয়বহুল ও ভুলভাবে পরিচালিত এই যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হতে অনাগ্রহী, তা সহজেই বোঝা যায়। যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। তার ওপর ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ার পর এখন কোনো বিকল্প পরিকল্পনাও নেই।

তার মতে, যে প্রশাসন নিয়মিত তার বন্ধু ও অংশীদারদের অপমান করে, গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার মতো ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেয় এবং মিত্রদের ওপরও শাস্তিমূলক শুল্ক চাপায় তার পাশে দাঁড়াতে কেউ কেন এগিয়ে আসবে?
অন্যদের নিজের সঙ্গে নিতে দুটি পথ রয়েছে বোঝানো এবং ভয় দেখানো। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে কোনোটিই কাজ করছে না। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের অ্যারন ডেভিড মিলার যথার্থই বলেছেন, এ ক্ষেত্রে ‘ডি-ডে’ আসলে ‘হতাশার দিন’।

ট্রাম্পের কথায় বিশ্বাস হারিয়েছে পৃথিবী

অন্যদের বোঝাতে হলে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রয়োজন। তাদের বিশ্বাস করতে হবে, প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জনযোগ্য এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জন্য পরিচিত। ফলে তিনি যা বলেন, তা বিশ্বাস করার মতো লোক কমে গেছে।

২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। মার্চে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতাকেও আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস করেছে। যে যুদ্ধ চার সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময় চলার কথা ছিল, সেটি এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে।

ইরান থেকে কানাডা সবাই বুঝতে পারছে, ট্রাম্প যে কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও তার স্থায়িত্ব টিস্যু পেপারের মতোই ভঙ্গুর হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বেসেন্টের ওপরও আস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বন্ড ও মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থ চেষ্টায় তিনিও সেই বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছেন। সম্ভবত তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পকে দেখানো যে তিনি কিছু একটা করছেন। কিন্তু এমন একজন প্রেসিডেন্টকে কেন কেউ সুবিধা দিতে যাবে, যিনি পরদিনই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন?

বোঝানোর পথ বন্ধ হয়ে গেলে ট্রাম্পের হাতে থাকে তার পছন্দের পথ ভয় দেখানো ও শক্তি প্রদর্শন। কিন্তু এখানেই বড় সমস্যা। ট্রাম্প ও বেসেন্ট হয়তো বুঝতে পারছেন না, অতীতের মতো এখন আর যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর ইচ্ছামতো চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।

আধুনিক যুদ্ধের ধরন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত অবস্থানও ট্রাম্প বুঝতে পারছেন না বলে মনে করেন স্টিগলিটজ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি হিসাবে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তখন তা ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ, ২০২৫ সালে যা ১৫ শতাংশের নিচে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চোকপয়েন্ট বা সরবরাহের সংকটস্থলগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কমেছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত চিপের বড় অংশ উৎপাদিত হয় তাইওয়ানে। অন্যদিকে চীন ম্যাগনেট ও বিরল খনিজ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে আধিপত্য ধরে রেখেছে।

এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পও বুঝতে পারছেন, সব তাস এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। ইরানের তেল বিক্রির আয় কমাতে ক্রেতাদের লক্ষ্য করে চাপ দিতে চাইলেও ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে চীন। পাশাপাশি বিরল খনিজের ক্ষেত্রেও চীনের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে।

‘আমেরিকাবিহীন’ ব্যবস্থার দিকে বিশ্ব

ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির এই পরিবর্তিত বাস্তবতাই প্রতিফলিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে কানাডার ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে এমন উপলব্ধি থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আর পিছু হটতে চাইছেন না। তিনি এমন এক ব্যক্তির কাছে কানাডার অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, যাকে স্টিগলিটজ ‘পাগল রাজা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং যিনি ইরানের বিরুদ্ধেও নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারছেন না।

বিশ্বের অন্য দেশগুলোও সম্ভবত একই শিক্ষা নিচ্ছে। কাউকেই এ ধরনের চাপ সহ্য করতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করা বা দেশটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকাও বাধ্যতামূলক নয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি বিভিন্ন দেশের সামনে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুমুখী করার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

বেসেন্ট ও ট্রাম্প যত দ্রুত বুঝবেন যে তাদের হাতে থাকা তাস আগের মতো শক্তিশালী নয়, ততই যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ভালো হবে।চীন ও অন্যান্য দেশ ট্রাম্পের সর্বশেষ দাবিগুলো প্রতিহত করলে যার সম্ভাবনাই বেশি তারা ভেঙে পড়বে না কিংবা যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে চায়, তা-ও তাদের ওপর সহজে চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।

বেসেন্ট যে ‘অর্থনৈতিক বিশ্বযুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থায় গিয়ে ঠেকতে পারে অনেকটা হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার মতো। আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও ‘সফট পাওয়ার’ আরও দুর্বল করবে।

একসময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ। দেশটি গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সুযোগ ও এমন কিছু মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করত, যা বিশ্বের বহু দেশের কাছে আকর্ষণীয় ছিল।

কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রই হয়ে উঠেছে কী করা উচিত নয় তার উদাহরণ। চরম বৈষম্য, গণতান্ত্রিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও সামাজিক বিভাজনের এক সতর্কবার্তামূলক উদাহরণ হিসেবে দেশটিকে দেখছে বিশ্ব।

স্টিগলিটজের মতে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই ক্ষেত্রেই সহযোগিতা এবং আইনের শাসনের গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বের নতুন করে ভাবা উচিত। অন্তত আপাতত, আমেরিকান নেতৃত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়া একটি বিশ্ব সবার জন্য আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে।

সূত্র : প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।