রাজনৈতিক নানা জটিলতা আর হাজারও প্রতিকূলতার মাঝেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে ইরান ফুটবল দল। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করার পর লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা আবেগঘন চিঠি রেখে গেছেন ইরানি ফুটবলাররা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই চিঠির ছবি প্রকাশ করার পর এটি এখন নেট দুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার মাটিতে নানা বৈষম্যের শিকার হওয়া সত্ত্বেও ইরান দল মাঠ ছাড়ার আগে অত্যন্ত মার্জিত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে। ইংরেজিতে হাতে লেখা সেই চিঠির মূল বক্তব্য ছিল অত্যন্ত গভীর।
চিঠিতে লেখা ছিল হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান, ইরানের আত্মা সর্বদা জীবিত এবং অবিচল। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে গর্বের সাথে এসেছিলাম, সম্মানের সাথে লড়াই করেছি এবং মর্যাদার সাথে বিদায় নিচ্ছি। আতিথেয়তার জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসকে ধন্যবাদ। চিঠির শেষ অংশে তারা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়া প্রবাসী ইরানি দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্বের আহ্বান জানান।
এই সুন্দর ও মার্জিত চিঠির আড়ালে লুকিয়ে আছে ইরান দলের এক বুক কষ্ট এবং বৈষম্যের করুণ ইতিহাস। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি বিশ্বকাপে ইরান দল যেভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছে, তা ফুটবল ইতিহাসে বিরল। মার্কিন সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান দলকে আমেরিকার মাটিতে হোটেল ভাড়া করে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা মেক্সিকোর সীমান্ত শহর টিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রতিটি ম্যাচের দিন বর্ডার পার হয়ে তারা তড়িঘড়ি করে আমেরিকায় খেলতে আসে এবং ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুত আবার মেক্সিকো ফিরে যেতে বলা হয়। এছাড়া ভিসা জটিলতায় ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোচিং স্টাফ ও টেকনিক্যাল অফিশিয়ালদের আমেরিকার ভিসা দেওয়া হয়নি। ফলে পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড বা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে দলটিকে। প্রতি ম্যাচ শেষে যেখানে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, সেখানে ইরান দলকে ম্যাচ শেষেই সরাসরি মেক্সিকোগামী প্লেনে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো দল মাঠের ভেতরে বা বাইরে ক্ষোভ উগরে দেয়। কিন্তু ইরানি ফুটবলাররা বেছে নিয়েছেন ভালোবাসার ভাষা। ফুটবল যে শুধু একটি খেলা নয়, বরং ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর এবং শান্তির বার্তা ছড়ানোর এক অন্যতম মাধ্যম। ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া এই একটি চিঠির মাধ্যমে ইরান দল পুরো বিশ্বকে যেন সেটাই মনে করিয়ে দিল।
এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

