সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে বিদ্যমান সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি একটি নৈশকালীন বা দ্বিতীয় শিফটের ডাকঘর চালুর নির্দেশ দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। গত ১২ এপ্রিল মেট্রোপলিটন সার্কেল ঢাকা বরাবর পাঠানো পত্রে পোস্টমাস্টার জেনারেল এই নির্দেশনা প্রদান করেন। পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, নৈশকালীন সেবা চালুর পরবর্তী তিন মাসের ‘ভ্যালু রিটার্ন’ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন ডাক অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মন্ডল ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিলেন।সেই চিঠিতে তিনি জনসাধারণের দ্রুত ডাকসেবা নিশ্চিত করা, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের জরুরি আদেশ ও আইনজীবীদের চিঠিপত্র যথাসময়ে প্রেরণ এবং সরকারি কাজের স্বার্থে সান্ধ্যকালীন ডাকসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জানা গেছে, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সাব-পোস্ট অফিসটি দুপুর ২টা পর্যন্ত সেবা প্রদান করে থাকে, যা প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। নৈশকালীন এই ডাকঘর চালু হওয়ার ফলে প্রতি কার্যদিবসে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গ্রাহকসেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে বিচারপ্রার্থী জনসাধারণের কাছে আদালতের জরুরি আদেশ ও চিঠিপত্র পাঠানো অনেক সহজ ও দ্রুততর হবে।বিশেষ করে ফৌজদারি মামলায় জামিনের আদেশগুলো দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালত ও কারাগারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে অনলাইনে আদেশ প্রেরণের পাশাপাশি ডাকযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াতেও আর বিলম্ব ঘটবে না, যার ফলে একজন নিরপরাধ ব্যক্তি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।পাশাপাশি দেওয়ানি ও রিট মামলার আদেশগুলো পৌঁছাতে যে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হতো, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে তার অবসান ঘটবে। সুপ্রিম কোর্টের ডেসপ্যাচ সেকশন প্রতিদিনের ফাইলগুলো ওইদিন রাতেই জমা দিতে পারবে, ফলে ফাইলের স্তূপ জমে থাকার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ যদি আপিল বিভাগে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায়, তবে ডাকযোগে দ্রুত নোটিশ প্রাপ্তি তাদের আইনজীবী নিয়োগ ও পরবর্তী আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের সুবিধা দেবে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে এস এম আরিফ মন্ডল জানান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সহযোগিতায় এবং নিরবচ্ছিন্ন দাপ্তরিক যোগাযোগের ফলে অতি স্বল্প সময়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আরিফ মণ্ডল আরও বলেন, ‘বিচারপ্রার্থী জনসাধারণের জন্য নৈশকালীন পোস্ট অফিস স্থাপনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করায় নিজেকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার মনে হচ্ছে। আর উচ্চ আদালতে জামিনের আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি যেন জেলখানা থেকে কাল বিলম্ব না করে মুক্তি পায়-তবেই আমার এই উদ্যোগটি সার্থক হবে।’

