বিতর্ক সত্ত্বেও জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম স্পটিফাইয়ের তার কোটি কোটি শ্রোতা রয়েছে। এছাড়া তার জীবন ও সংগীত নিয়ে লাস ভেগাসে ‘মাইকেল জ্যাকসন ওয়ান’ এবং ব্রডওয়েতে ‘এমজে দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো সফল প্রযোজনা নিয়মিত প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটিও বড় ব্যবসা করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা
পপসংগীত কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ মুক্তির পেতে যাচ্ছে চলতি মাসে। সিনেমাটি নির্মাণের ঘোষণা থেকেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্স অফিসে বড় সাফল্যের সম্ভাবনা থাকলেও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। ছবিটি কি মাইকেলের জীবনের পুরো গল্প, নাকি বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে যাবে?
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া কুইন ব্যান্ডের ফ্রেডি মার্কারির জীবনীভিত্তিক ‘বোহেমিয়ান রাপসোডি’ ৯০ কোটি ডলারের বেশি আয় ও চারটি বিভাগে জিতে নেয় অস্কার। এ সাফল্য সংগীতনির্ভর বায়োপিকের বাজারকে নতুনভাবে চাঙ্গা করে। সেই ছবির প্রযোজক গ্রাহাম কিং ২০১৯ সালে ঘোষণা দেন, তিনি এবার ‘কিং অব পপ’-কে নিয়ে ছবি বানাবেন। তবে জ্যাকসনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এ প্রকল্পের শুরু থেকেই একটি বড় বাধা ছিল।
১৯৯৪ সালে জর্ডান চ্যান্ডলার নামের এক কিশোরের পরিবারের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছান মাইকেল জ্যাকসন। পরে ২০০৫ সালে আরেকটি মামলায় তিনি আদালতে খালাস পান। জ্যাকসনের এস্টেটের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি নির্দোষ এবং আদালতের রায় তা প্রমাণ করে। তবুও এসব অভিযোগ তার জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, যা চলচ্চিত্র নির্মাণকে জটিল করে তোলে।
এসব বিতর্ক সত্ত্বেও জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম স্পটিফাইয়ের তার কোটি কোটি শ্রোতা রয়েছে। এছাড়া তার জীবন ও সংগীত নিয়ে লাস ভেগাসে ‘মাইকেল জ্যাকসন ওয়ান’ এবং ব্রডওয়েতে ‘এমজে দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো সফল প্রযোজনা নিয়মিত প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটিও বড় ব্যবসা করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন আন্তোনি ফুকুয়া এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন জন লোগান। অভিনয়ে রয়েছেন কোলম্যান ডমিঙ্গো, মাইলস টেলার ও নিয়া লং। জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করছেন তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘মাইকেল’ ছবির কাহিনি ঘিরে। শুরুতে বলা হয়েছিল, চলচ্চিত্রটি জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলোও তুলে ধরবে। কিন্তু পরে জানা যায়, চিত্রনাট্যে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন ছবিটি মূলত তার শৈশব, খ্যাতির উত্থান এবং ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড ট্যুর’-এর একটি সফল কনসার্ট দিয়ে শেষ হয়—যেখানে কোনো বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এ পরিবর্তনের পেছনে আইনি জটিলতা বড় কারণ। ১৯৯৪ সালের সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, জর্ডান চ্যান্ডলারকে কোনো চলচ্চিত্রে দেখানো বা উল্লেখ করা যাবে না। ফলে নির্মাতাদের গল্পের বড় অংশ বাদ দিতে হয় এবং নতুন দৃশ্য সংযোজন করতে হয়। এ জন্য গত বছর মূল শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত শুটিং করতে হয়, যার খরচ পড়ে প্রায় এক-দেড় কোটি ডলার।
এদিকে ২০১৯ সালের আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’-এ ওয়েড রবসন ও জেমস সেফচাক নামের দুই ব্যক্তি জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। এই ডকুমেন্টারি এবং এর সিক্যুয়েলকে জ্যাকসনের এস্টেট ‘একপক্ষীয়’ বলে সমালোচনা করেছে। অপরদিকে নির্মাতা ড্যান রিড দাবি করেন, বায়োপিকের প্রাথমিক চিত্রনাট্যে অনেক ভুল তথ্য ছিল—যা নিয়ে বিতর্ক আরো বেড়েছে।
সমালোচকদের মতে, জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা টিকে থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। একদিকে তার বিরুদ্ধে অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণের অভাব, অন্যদিকে তার জীবনকে ‘নিপীড়িত শিল্পীর গল্প’ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হলো তার অসাধারণ প্রতিভা—গায়ক, নৃত্যশিল্পী ও পারফর্মার হিসেবে তিনি এখনো অনন্য।
সব মিলিয়ে, ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটি একদিকে যেমন বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে এটি জ্যাকসনের জটিল ও বিতর্কিত জীবনকে কতটা সৎভাবে তুলে ধরতে পারবে—সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাজ্যে ২২ এপ্রিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসি অবলম্বনে

