পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলমান শান্তি আলোচনার নতুন পর্বে ইরান তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি এবং মার্কিন অবস্থানের বিপরীতে নিজেদের আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ ৯ সপ্তাহ ধরে চলা এই বিধ্বংসী যুদ্ধ, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে, তা অবসানের লক্ষ্যেই পাকিস্তান এই মধ্যস্থতার আয়োজন করেছে। যদিও এই আলোচনার বিস্তারিত এখনো আড়ালে রাখা হয়েছে, তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ইরান শুরুতেই আমেরিকার সাথে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁদের যাবতীয় উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমেই ওয়াশিংটনকে জানানো হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সোজা জানানো হয়েছে যে, তারা আমেরিকার কোনো ‘অযৌক্তিক দাবি’ মেনে নেবে না।অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে ‘বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত’ নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের বিনিময়ে ইরান একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ এখনো হাতছাড়া করেনি। যুদ্ধের ফলে বিশ্ব তেলের বাজারের এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অচল হয়ে আছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মাত্র ৫টি জাহাজ পার হয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।ইরান দাবি করেছে, তারা বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমেরিকা এই যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে পড়ে এখন একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থানের’ পথ খুঁজছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর শনিবার থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। মদিনা, মাস্কাট এবং ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে প্রথম দিকের ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আকাশপথ উন্মুক্ত হওয়াকে অনেকেই বাণিজ্যের চাকা সচল হওয়ার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তবে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখনো ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকায় বিমান চলাচলের রুটগুলো এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি।ইরানের সাথে আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দাঁড়িয়েছে লেবাননের পরিস্থিতি। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।এদিকে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও সীমান্তে সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই। শনিবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লিটানি নদী সংলগ্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর রকেট লাঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার সতর্কতা জারি করেছে।

