etcnews
ঢাকাThursday , 13 March 2025
  1. অনিয়ম
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. উন্নয়ন
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. জাতীয়
  9. নির্বাচন
  10. প্রতিবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. রাজনীতি

রাজু ভাস্কর্য যাঁর নামে, সেই রাজু কে, কীভাবে শহীদ হয়েছিলেন

etcnews
March 13, 2025 6:14 am
Link Copied!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকার সড়কের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ভাস্কর্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুলিতে শহীদ হওয়া মঈন হোসেন রাজুর স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে এ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। যে রাজুর নামে এ ভাস্কর্য, আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী।

রাজু শহীদ হয়েছিলেন ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ। কাকতালীয়ভাবে তখনো পবিত্র রমজান মাস চলছিল। রাজুর কিছু হয়েছে, এ খবর পরিবারের সদস্যরা ফোনে জানতে পারেন ইফতারের সময়।

তড়িঘড়ি করে সেই সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান রাজুর মা–বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। রাজুর মরদেহ দাফনের পর তাঁরা তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পূর্বাপর জানতে পেরেছিলেন।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার যে গণ-আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, সেই আন্দোলনের প্রথম পর্বের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কর্মসূচি পালিত হয়েছিল রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন আন্দোলন-প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও রয়েছে রাজু ভাস্কর্য।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য শিক্ষার্থীদের রাজু ভাস্কর্যে আসার জন্য আহ্বান জানাতে দেখা গেছে। তিনি ফেসবুকে কয়েকবার ‘সবাই রাজুতে আয়’ লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন।

যেভাবে শহীদ হন রাজু

ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মাহমুদ খান বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। তিনি শহীদ রাজুর বিভাগ ও হলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শহীদুল্লাহ হলে তাঁরা দুজন থাকতেন একই কক্ষে। প্রিয় বন্ধুকে হারানোর দুঃখ এখনো তাঁকে তাড়া করে।

২০১৯ সালের মার্চে আবদুল্লাহ মাহমুদ খান প্রথম আলোকে রাজু হত্যার ঘটনার একটি বিবরণ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, পরদিন সকাল নয়টায় আসার কথা বলে ১২ মার্চ সন্ধ্যায় রাজু বিদায় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন ক্যাম্পাসে আসতে রাজুর দেরি হচ্ছিল। কিছুটা সময় অপেক্ষা করে মাহমুদরা চলে যান ক্রিকেট খেলতে। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে রাজু ক্যাম্পাসে আসেন। মারামারি হচ্ছে, এমন খবর শুনে রাজু ছুটে যান মধুর ক্যানটিনে।

সেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মীরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে মারধর করছিলেন। রাজুও জড়িয়ে পড়েন সেই মারামারির ঘটনায়। একপর্যায়ে তাঁর হাত কেটে যায়।

মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বেলা আড়াইটার দিকে শহীদুল্লাহ হলে এসে দেখি, রাজুর হাতে ব্যান্ডেজ। সকালের মারামারির কথা রাজুর মুখেই শুনি।’

রাজু বাসায় যেতে চেয়েছিলেন। বন্ধুরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় না ফিরে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে যেতে বললেন। পরে রাজু কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে মাহমুদসহ তিন বন্ধুকে নিয়ে বাইরে বের হন। তাঁদের অন্য দুজন হলেন সাইফুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান।

বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। এর মধ্যেই রিকশায় করে তাঁরা টিএসসিতে যান। মাহমুদকে নিয়ে টিএসসির ভেতরে ঘুরে এসে বাইরের মূল ফটকে দাঁড়ান রাজু।

মাহমুদ বলেন, সেখান থেকে তাঁরা দেখলেন, ডাস ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা বচসা শুরু করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রদল হাকিম চত্বরের দিকে আর ছাত্রলীগ শামসুন নাহার হলের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে সরে যেতে থাকল। এ ঘটনা যখন চলছিল, তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি–সংলগ্ন ফটকে অবস্থান করছিল পুলিশ। একপর্যায়ে টিএসসিতে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় টিএসসি।

রাজুর বন্ধু মাহমুদের ভাষ্যে, ‘ঠিক সেই মুহূর্তে ঝোড়ো হাওয়া আসে। শুরু হয় বৃষ্টি। সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি থেমে গেল। রাজু বন্ধুদের সঙ্গে টিএসসির মূল ফটকের সামনে দাঁড়াল। বৃষ্টি থামার পর পুলিশ ডাসের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। কিন্তু সন্ত্রাসী দুই দলের সদস্যরা তখনো অবস্থান করছিল শামসুন নাহার হলের সড়কদ্বীপ আর হাকিম চত্বরের দিকেই। পুলিশ অস্ত্রধারীদের কিছু না বলে উল্টো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সরে যেতে বলে।’

এই সাইটে কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।