টানা ১৫ মাস গাজায় বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এখন চলছে যুদ্ধবিরতি। গাজার মিডিয়া অফিসের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার। যার মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে নারী দিবস।
তবে গাজার নারীদের জন্য এ দিনটি ভিন্ন কোনো অর্থই বহন করে না। ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৩১৬ ফিলিস্তিনি নারী প্রাণ হারিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন গাজার মিডিয়া দপ্তরের প্রধান সালামা মারুফ।
তিনি বলেন, বিশ্ব একদিকে পালন করছে নারী দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে গাজায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের নারীরা প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যসহ চরম অসহায়ত্বের সঙ্গে।
ইসরাইলের নির্মমতায় শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ হারিয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন দুই হাজার নারী। সেই সঙ্গে ১৬২ জন লড়াই করছেন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ রোগের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধে স্বামীকে হারিয়েছেন ১৩ হাজার ৯০১ জন নারী, সন্তানহারা হয়েছেন কমপক্ষে ১৭ হাজার মা এবং ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী তাদের গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন।
এদিকে গাজার সরকারি এই হিসাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস। গাজা যুদ্ধে এত বিশালসংখ্যক নারী হত্যার ঘটনাকে ‘মানবতার জন্য কলঙ্কজনক’ বলে অভিহিত করেছে হামাস। এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, নির্বিচারে নারীদের হত্যা, আহত এবং হাজারো নারীদের বাস্তুচ্যুত করা ‘মানবতাকে কলঙ্কিত’ করেছে। ফিলিস্তিনি নারী বন্দিরা যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা সব আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
হামাস আরো জানায়, ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের দুর্ভোগ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বৈত সত্তাকে’ প্রকাশ করে।
এদিকে গাজায় খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এখানকার হাজারো নারী।

