রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় এবং দেশটি থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।শনিবার (১৭ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে উদ্বেগ বেড়েছে ইউক্রেনে। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে আংশিকভাবে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেছেন।জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় মস্কোর জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি মানবে না কিয়েভ। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাশিয়ার ওপর আরোপের কথা থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির মতে, এতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখতে উৎসাহ পাবে।
এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাময়িকভাবে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং রুশ ডিজেল আমদানির বিষয়ে সমঝোতার কথা জানান ট্রাম্প।
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ বা সীমিত করা হলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শনাক্ত এবং প্রতিরোধ করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে এসেছে। ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড সেবায় বিঘ্ন ঘটার পর দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরে সেবাটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।
তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় কিয়েভ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী তারা।
এদিকে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ফ্রিডের মতে, ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ইউক্রেনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেলেনস্কি ও পুতিন উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখবেন। তার লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
সূত্র: রয়টার্স

