রাজধানীর বিদ্যুতের গ্রাহকদের জন্য স্বচ্ছ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবে সেই স্মার্ট মিটার এখন উল্টো ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব মিটারে গ্রাহককে ব্যবহার অনুযায়ী সঠিক ও তাৎক্ষণিক বিল দেখানোর কথা, সেগুলোই এখন দেখাচ্ছে ভুয়া হিসাব। হঠাৎ করে টাকা কেটে নেওয়া, ব্যালেন্স কমে যাওয়া, আবার কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাড়তি বা কম দেখানো হচ্ছে। এসব কারণে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুতের স্মার্ট মিটারে ‘ভুয়া বিল’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।এদিকে, গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) নিজেই পড়েছে বড় ধরনের সংকটে। পূর্ণাঙ্গ সিস্টেম প্রস্তুত না রেখেই বিপুল পরিমাণ স্মার্ট মিটার আমদানি করায় এখন চার লাখের বেশি মিটার গুদামে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এগুলো বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, ফলে শত শত কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রি-পেমেন্ট সিস্টেমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আগে টাকা পরিশোধ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা, ফলে কোনো বকেয়া থাকবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, অনেক মিটার প্রি-পেমেন্ট মোডে ঠিকভাবে কাজ করছে না। ফলে গ্রাহকের অজান্তেই বিল জমে যাচ্ছে এবং পরে তা বকেয়া হিসাবে দেখানো হচ্ছে। এতে গ্রাহক দ্বিগুণ চাপের মধ্যে পড়ছেন। একদিকে তাৎক্ষণিক টাকা কাটা যাওয়া, অন্যদিকে বকেয়ার বোঝা।ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, স্মার্ট মিটারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে ও তার বিপরীতে কত টাকা কাটা হচ্ছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। এতে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। হঠাৎ ব্যালেন্স কমে যাওয়া, বিলের ওঠানামা, ডিসপ্লে ও অ্যাপের তথ্যে অসামঞ্জস্য এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। ফলে স্মার্ট মিটারের প্রতি গ্রাহকের আস্থা কমছে, বাড়ছে ক্ষোভ।
রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, সবশেষ ২ হাজার টাকা রিচার্জ করে এক দিন পর দেখি ব্যালেন্স আছে মাত্র ২৬৮ টাকা। এর তিন দিন পর ব্যালেন্স হয় ৭৭ টাকা। এখন দেখাচ্ছে ১১১ টাকা। অস্বাভাবিকভাবে টাকা কেটে নেওয়া হয়। রিচার্জ না করলেও ব্যালেন্স কখনো কম, কখনো বেশি দেখায়। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে বিস্তারিত দেখা গেলেও মিটারের ডিসপ্লেতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মেলে না। হুটহাট বিদ্যুৎ শেষ হয়ে পড়তে হয় বিপদে। আর মিটার লক হয়ে গেলে বারবার ফোন দিতে হয় অফিসে।
গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, একাধিক গ্রাহক প্রতিদিনই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ বলছেন, রিচার্জ করলেও ব্যালেন্স কমে যাচ্ছে, আবার কেউ বলছেন এক দিনে অস্বাভাবিকভাবে অনেক টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ জানানোর পর বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক এসে তা সাময়িকভাবে ঠিক করে দিলেও কয়েকদিনের মধ্যেই মিটার আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বলেও অভিযোগ তাদের।
একই এলাকার বেলাল নামে এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকে ভোগান্তির আর শেষ নেই। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ অভিযোগ করেন। বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক আসে, ঠিক করে দেয় । দুই-এক দিন পর আবারও একই সমস্যা দেখা দেয়। আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, আগের চেয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল। প্রি-পেমেন্ট মোডে কাজ না করায় বিল বকেয়া তৈরি হচ্ছে। চাইলেও ফোন থেকে রিচার্জ করা যায় না, লক হয়ে যায়। ফোন করলে বলে, নেটওয়ার্ক সমস্যা; কিন্তু সমস্যার সমাধান আর হয় না।শুধু স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার নয়, কিছু পোস্ট-পেইড মিটারেও ভুয়া ও অতিরঞ্জিত বিলের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর জিগাতলার এক বাসিন্দা জানান, তার স্বাভাবিক বিল প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা হলেও গত মাসে তা সাড়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়। পরে আপত্তি জানালে ভুল স্বীকার করে বিল কমানো হয়। তিনি বলেন, আপত্তি না তুললে অতিরিক্ত টাকাই দিতে হতো। শুধু এ গ্রাহক নন, অনেকেই এমন ভুয়া এবং অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ডিপিডিসির স্মার্ট মিটারের প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ প্রযুক্তিগত ঘাটতি এবং পরিকল্পনাগত দুর্বলতা। স্মার্ট মিটারের সঙ্গে যুক্ত মিটার ডাটা ম্যানেজমেন্ট (এমডিএম) সিস্টেম যথাযথভাবে অপটিমাইজ না করেই মাঠপর্যায়ে মিটার স্থাপন শুরু করা হয়েছে। ফলে ডাটা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত না হয়ে ভুল বা অসম্পূর্ণ হিসাব তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া নেটওয়ার্ক সমস্যাও বড় ভূমিকা রাখছে। স্মার্ট মিটারগুলো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ডাটা পাঠাতে না পারলে ব্যালেন্স আপডেটে গরমিল দেখা দেয়। এতে কখনো অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, আবার কখনো কম দেখানো হচ্ছে। এ অনিয়মিত আপডেটই গ্রাহকদের কাছে ভুয়া বিল হিসাবে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া স্মার্ট মিটার সঠিকভাবে চালাতে প্রয়োজনীয় সহায়ক যন্ত্রাংশের একটি বড় অংশ এখনো আমদানি হয়নি। ফলে অনেক মিটার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।
এ বিষয়ে ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, স্মার্ট মিটার প্রকল্পটি ‘ক্রিটিক্যাল’ হলেও বাস্তবায়নে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। অনেক মিটার ঠিকমতো কাজ করছে না এবং সিস্টেমেও সমস্যা আছে। প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মান দুর্বল, যন্ত্রপাতিতে ঘাটতি এবং দক্ষ জনবলের অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পরিকল্পনার ঘাটতি ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতায় প্রকল্পটি গ্রাহকদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মাঠপর্যায়ে এ সমস্যাগুলোর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবতায়। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) বহুল আলোচিত স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রকল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় আট বছর আগে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির আওতায় আমদানি করা চার লাখের বেশি স্মার্ট মিটার এখন গুদামে পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ে এগুলো বসানো না গেলে বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা সরকারি নথিতেই উঠে এসেছে। এতে শত শত কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পটি ২০১৮ সালের আগস্টে একনেকে অনুমোদন পায়। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৫৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের বড় অংশ এখনো অসম্পন্ন। ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ কোটির বেশি। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবারও এক বছর সময় চেয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট মিটার আমদানি করা হলেও মাঠে বসানো হয়েছে মাত্র আড়াই লাখের মতো। অর্থাৎ ৪ লাখের বেশি মিটার দীর্ঘদিন ধরে গুদামে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো না হলে এ মিটারগুলো বসানো সম্ভব হবে না, এমনকি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেগুলো বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রকল্পের শুরু থেকেই জটিলতা দেখা দেয়। প্যাকেজ-১ টার্নকি চুক্তি স্বাক্ষরেই প্রায় দুই বছর লাগে। ২০২২ সালে প্যাকেজ-২ ও ৩ চুক্তি হলেও বড় পরিসরে মিটার বসানো শুরু হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। বিলিং সিস্টেম (এমডিএম) ঠিকমতো অপটিমাইজ না থাকায় পাঁচ মাস কোনো মিটার স্থাপন করা যায়নি। প্রি-পেমেন্ট মোড চালু না হওয়ায় বকেয়া বাড়ে গ্রাহকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন মিটার বসানো বন্ধ রাখতে হয়; এখনো অনেক যন্ত্রাংশ আমদানি বাকি রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কাজ বাকি থাকলেও প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছে গেছে। পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকিতে ব্যর্থ হলেও অর্থ ব্যয়ের গতি থামেনি। অর্থাৎ অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, কাজ অসম্পন্ন রেখেই প্রকল্প শেষ হলে সরকারি বিনিয়োগের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে এবং প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে স্টিয়ারিং কমিটির সভায় বলা হয়, প্রকল্পটির আওতায় আমদানি করা ৬ লাখ ৫০ হাজার মিটারের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৪৫ হাজার স্মার্ট মিটার স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে মজুতকৃত ৪ লাখ ৫ হাজার মিটার স্থাপন করা সম্ভব হবে না, এমনকি মিটারগুলো বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্টিয়ারিং কমিটির সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হবে। পরে ডলার বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং চুক্তিমূল্য সমন্বয়ের জন্য আবার ডিপিপি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার মেয়াদ বাড়ালেও মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধান না হলে গুদামে থাকা লাখ লাখ স্মার্ট মিটারই প্রকল্পের বড় বোঝা হয়ে উঠবে। তাদের মতে, পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ছাড়া এমন জটিল ব্যবস্থা চালু করাই ছিল বড় ভুল। ডাটা ইন্টিগ্রেশন ও বিলিং সিস্টেম ঠিকমতো কাজ না করলে মিটার নির্ভরযোগ্য হবে না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে গ্রাহকের আস্থা হারানোর পাশাপাশি বিপুল অর্থ অপচয়ের শঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অপরিকল্পিত কাজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. জিয়াউল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ডিপিডিসির এমডি নুর আহমেদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে কথা হয় নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ আলম খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, স্মার্ট মিটার প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৮ লাখ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৬ লাখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ মিটার স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, নেটওয়ার্ক স্থাপনই মূল জটিলতা ছিল, যা এখন সমাধান হয়েছে। গ্রাহকদের অনীহা কাটিয়ে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়ে মোরশেদ আলম খান বলেন, কিছু কিছু মিটারে হয়তো ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দিচ্ছে, সেগুলো ঠিক করা হবে। নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুরুর দিকে কিছু জটিলতা থাকাই স্বাভাবিক। বর্তমান সমস্যাগুলোর পেছনে যোগাযোগ ঘাটতি বা রিচার্জ প্রক্রিয়ার ত্রুটি থাকতে পারে। ডিপিডিসি এসব সমস্যা কমাতে কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

