নির্বাচনের প্রচারে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ ঢাকা-৯ আসন। তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ত্রিমুখী লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও নেই প্রতিহিংসা ও অপবাদের রাজনীতি। জনগণের রায়ে আস্থা রাখছে মূল প্রার্থীদের সবাই। তাঁদের আশ্বাস পরাজিত হলেও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর পাশে থাকবেন সব সময়। খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনের ত্রিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ। ভোটারদের জন জয় করতে শেষ সময়ের প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীদের সবাই। কোনো কোনো আসনে চলছে পাল্টা অভিযোগ আর কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি। তবে ব্যতিক্রম ঢাকা-৯ আসনের চিত্র।
এ আসনে বিএনপি থেকে লড়ছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রশীদ হাবিব। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নেওয়া তাসনিম জারা এবং জামায়াত জোটের জাবেদ রাসিন। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই তাঁরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অপবাদ না দিয়ে বজায় রাখছেন সম্প্রীতি ও সহবাস্থানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
প্রতিদ্বন্দীদের প্রতি সম্মান রেখেই প্রচারণা চালাতে চান প্রার্থীরা। এলাকার উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তাঁরা। এ প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘কারণ আমি মনে করি, যারা এই নির্বাচন করছেন তাঁরা এলাকার ভালো চান, এলাকার মানুষের ভালো চান। সুতরাং তাঁদেরকে তো আমি আমার পাশে রাখার চেষ্টা করব, তাঁদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিজয়ী হলেও যেমনিভাবে তাঁদের কাছে যাব, আমি পরাজিত হইলেও তাঁদের কাছে যাব। আমার কথা হচ্ছে, আমি চাই সবাইকে নিয়ে কাজ করতে।’তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাও কথা বলেছেন একই সুরে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ভোটের মাঠে অনেক প্রার্থী থাকবেন। সকলেই এলাকার উন্নয়নের জন্য কথা বলছেন, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একসাথে মিলেই আমরা কাজ করব, এবং সেই পরিস্থিতিটাই বজায় রাখবে, সেটাই আশা থাকবে।’
সবাইকে নিয়ে পথ চলার আশ্বাস দিয়ে ঢাকা-৯ আসনের এনসিপি প্রার্থী জাবেদ রাসিন বলেন, ‘আমি যদি ইনশাআল্লাহ জয়ী হয়ে আসি, যারা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়েই, তাঁদের সবার মতামত নিয়েই, আমার যারা ঢাকা-৯ এর জনগণ আছেন, ভোটার আছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়েই আমি সামনে পথ চলব ইনশাআল্লাহ।’ সব মিলিয়ে ঢাকা-৯ আসনে শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের রাজনীতিতে তৈরি করছে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ত্রিমুখী লড়াইয়ে জনগণের রায়েই আস্থা রাখতে চান প্রার্থীরা।

