চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
মুসলিম মিল্লাতের ঈমানী অস্তিত্বের প্রতীক ও জাতীয় শহীদ দিবস হিসেবে স্বীকৃত শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি রেভুলুশন, চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল সমাবেশ ও ঈমানী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা আরেফ সারতাজ।
বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ—এমদাদুল হক সায়ীফ, আল্লামা ইলিয়াস শাহ, আল্লামা নঈম উদ্দীন, আল্লামা রেজাউল কাউছার, সাবিনা সাআদাত সাফা, কামরুল আলম নকীব, নিজাম উদ্দীন, আজিজ মাবরুর, আবদুল বারেক, নাফিস মোবারক, লুৎফর রহমান লিটন, গিয়াস উদ্দীন, আবদুল আজিজ, রেজাউল করিম, ইরফানুল হক ও মাওলানা মোরশেদুল ইসলাম খোরশেদ।
বক্তারা বলেন, মহররম মাস হল ঈমানী শোক ও শপথের মাস, কোনোভাবেই আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ নয়। কারবালার শাহাদাত কেবল একটি ইতিহাস নয়, বরং তা হল মানবতার মুক্তি ও ইসলামের মূল ধারাকে রক্ষার চূড়ান্ত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের নিদর্শন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রিয়নবী (সা.)-এর আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসা রাখা ঈমানের অঙ্গ। ইমাম হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাত সত্য, ন্যায় ও মানবতার প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আত্মত্যাগ ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ—তাওহীদ, রিসালাত, শরীয়ত ও ইনসানিয়াত রক্ষার মহান চেতনার বাহক।
তারা বলেন, মোয়াবিয়া-ইয়াজিদী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে কারবালার শাহাদাত ছিল একটি ঈমানী বিপ্লব, যা আজও বাতিল ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামের দিশারি। এ শাহাদাত মানবিক সাম্য, ন্যায়বিচার ও সকল মানুষের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি।
সমাবেশে নেতারা মুসলিম উম্মাহকে শিয়া মতবাদ ও ইয়াজিদপন্থী খারেজি বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তাঁরা বলেন, শাহাদাতের প্রকৃত দিশা ও উদ্দেশ্য হারালে শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালনের মধ্য দিয়ে এ দিবসের তাৎপর্য রক্ষা করা সম্ভব নয়।
সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়কে এক ঈমানী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

