বিশেষ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনকে ঘিরে একটি সংগঠিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিক, প্রশাসনিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক জিআইবিআর এবং বর্তমানে বরখাস্ত কর্মকর্তা রমজান আলী। তার বিরুদ্ধে পূর্বে থেকেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের এসব অভিযোগ থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই তিনি বর্তমান ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িয়েছেন।রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রমজান আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, এবং পাথর সরবরাহকারী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তাদের দাবি, এসব অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার প্রাথমিক প্রমাণও তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে রয়েছে। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।দুদক সূত্রে জানা গেছে, রমজান আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলার চার্জশিট ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার একটি ছয়তলা বাড়ি রয়েছে, যা আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা চলমান রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান ডিজি মো. আফজাল হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রেলওয়ের বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণে একটি অসাধু চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প চুক্তিতে ৪০ শতাংশ ঘুষ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্টরা ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল রমজান আলী দুদকে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগটি যাচাইয়ের আগেই সেটিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এ ধরনের অপপ্রচার চলতে থাকলে রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে রেলওয়ের ডিজি যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের রেলওয়ে সেক্টরে উন্নয়নের মাস্টার প্লান যখনই বাস্তবায়নে চেষ্টা চালাচ্ছে, তখনই এই অপপ্রচার গুলো শুরু করা হয়েছে যাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়।
অভিযুক্ত রমজান আলী বসুন্ধরার ৬ তলা ভবনটি ক্রোকের কথা স্বীকার করে রেলনিউজকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

