শানারেই দেবী শানু। অভিনেত্রী। গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘সাত ভাই চম্পা (আদি পর্ব)’। পাশাপাশি ‘জল জোছনা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমা, নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন
‘সাত ভাই চম্পা (আদি পর্ব)’ সিনেমা নিয়ে প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
সিনেমা মুক্তির পর থেকে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা টেলিভিশন ভার্সন দেখেছিলেন, তারা নস্টালজিয়া নিয়ে হলে গিয়ে দেখেছেন। পরিবার নিয়ে দেখার মতো ছবি বলে অনেকেই সন্তানের হাতে ধরে হলে গেছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ লিখছেন, তাদের শৈশবের গল্পের সঙ্গে মিল পেয়েছেন; কেউ বলছেন, ভিজ্যুয়ালটা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও সুন্দর হয়েছে। সবচেয়ে ভালো লাগছে মানুষ আমাকে আবার নতুন করে দেখছে।
সিনেমাটি অল্পসংখ্যক হলে মুক্তি পেয়েছে বলে মন খারাপ হয়নি?
খুব মন খারাপ হয়নি। আমার কাছে এ সিনেমা মুক্তি ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’র মতো ব্যাপার ছিল। ২০১৮ সালে যখন ‘সাত ভাই চম্পা’ টেলিভিশন ধারাবাহিকের শুটিং করছি, তখন বলাবলি হচ্ছিল– এটি সিনেমা হবে। পরে শুটিং হয় সেভাবে। অনেক বছর অপেক্ষার পর যখন মুক্তি পাচ্ছিল না, তখন আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। যখন শুনলাম, এটি মুক্তি পাচ্ছে, অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছিল। আমরা একটা অস্থির সময় পার করছি। এ রকম সময়ে রূপকথার গল্পকে দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটি ভেবে কর্তৃপক্ষ হয়তো তিনটি হলে সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংখ্যা কম ছিল, এটা সত্যি। কিন্তু এবার যেটি দেখলাম, ছোট পরিসর থেকেও সিনেমা নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। মানুষ শুনে শুনেই যাচ্ছে। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমরা প্রচারণায় হয়তো একটু পিছিয়ে ছিলাম। আগেভাগে প্রচার চালানো গেলে টেলিভিশন আর ওয়েবে আগের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আরও বড় পরিসরে মুক্তি হতে পারত। তবু এটি আমার কাছে শুরু মাত্র। সিনেমাটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে, এটিও আনন্দের।
শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে…
নিখুঁতভাবে অনেক পরিশ্রম দিয়ে কাজটি করেছি। এটি ‘সাত ভাই চম্পা’র মূল গল্পের আদি গল্প। অনেক অ্যারেজমেন্ট ছিল। সিনেমাটির সঙ্গে সবার আবেগ জড়িত। সেটি আমি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছি। জীবনের লম্বা সময় ধরে এর শুটিং করেছি। শুটিংয়ে সবাই আমাকে বড় রানী বলেই ডাকত। সেটে যখন সাজগোজ করে ঢুকতাম, তখন নিজেকে রানী মনে হতো। রাজমহলের আবহে কাজ করেছি।
দীর্ঘ বিরতির পর ‘জল জোছনা’ দিয়ে ফিরে এলেন। নাটকে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
নির্মাতা সোহেল আরমান ভাই নিজেই স্ক্রিপ্ট লেখেন। তাঁর লেখার আমি ভক্ত। সংলাপও দারুণ লেখেন। নাটকে তিনি আমার সহশিল্পী। এ কারণে তাঁর সঙ্গে কাজের আনন্দটা অন্য রকম। তিনি হঠাৎ একদিন ফোন দিলেন। তিনি যখন ‘জল জোছনা’তে অভিনয়ের কথা বললেন, মনে হলো যেন সঠিক সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলাম। ধারাবাহিকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য নির্মিত। ঢাকার পাশাপাশি নবাবগঞ্জেও শুটিং হয়েছে। পরিবেশটা ছিল খুব আন্তরিক, সবাই যেন একসঙ্গে কাজ করার ক্ষুধা নিয়ে সেটে এসেছে। আমার নিজের জন্যও এটি ছিল আত্মবিশ্বাসে ফেরার সময়। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বুঝলাম, আমি এখন প্রস্তুত।
নাটকের গল্প কী নিয়ে? সোহেল আরমান ভাই পাণ্ডুলিপি হাতে দিয়ে প্রথমেই বলেছিলেন, ‘এটি সেই পুরোনো দিনের বিটিভির ধাঁচের নাটক।’ পড়ে সত্যিই সেই অনুভূতিটা পেয়েছি– নব্বইয়ের দশকের নাটকের সংলাপ, গতি আর আবহ।
এটি আসলে পারিবারিক-সামাজিক গল্প। আমার চরিত্রের নাম কাজল আর রুদ্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরমান ভাই নিজেই। কাজল আর রুদ্রর প্রেম আছে, আবার পরিবার-সমাজের টানাপোড়েনও আছে। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো– এ ধরনের নাটক পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে দেখতে পারবে।
অভিনয় ক্যারিয়ার দুই দশকের বেশি সময়। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখেন?
সময়টা কখন উড়ে গেল, বুঝতেই পারিনি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমি সব সময় চেষ্টা করেছি শিখতে। সিনিয়র অভিনেতা, নির্মাতা, সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। তাদের ভালোবাসা আর সহায়তা আমাকে ধরে রেখেছে। তবে একটা কথাই বারবার মনে হয়, নিজের সেরাটা এখনও দিতে পারিনি। এমন কোনো চরিত্র এখনও পেলাম না, যেখানে কাজ শেষে নিজেকে বলব– ‘হ্যাঁ, এবার তৃপ্ত।’ সেই সুযোগটার অপেক্ষায় আছি।
‘মিস্টার বাংলাদেশ’-এর পর আর বড়পর্দায় কেন দেখা যায়নি?
সিনেমার জন্য যেসব চরিত্রের অপেক্ষা করছিলাম, সেগুলোরও প্রস্তাব পাইনি। খুব বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির জন্য নিজেকে প্রস্তুতও মনে করিনি। এখন যেহেতু ভিন্ন ধরনের সিনেমা হচ্ছে এবং দর্শকও সেগুলো গ্রহণ করছে, তাই ফেরার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। ভালো গল্প-চরিত্র পেলে আবার বড়পর্দায় আসব।
লেখালেখির কী অবস্থা?
বইমেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। মণিপুরি মিথলজির ওপর কিছু একটা লিখছি। সেটি উপন্যাস হবে, নাকি অন্য ফর্মে যাবে– তা এখনও ঠিক হয়নি। যেহেতু অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছি, তাই সময় একটু বেশি লাগছে। আমি একসঙ্গে দুটো কাজ করতে পারি না। একটার পেছনে মন দিলে আরেকটা থেমে যায়। তাই ধীরে কিন্তু মন দিয়ে এগোচ্ছি।

