বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া। এতে শহরগুলোর অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থাপনা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা উন্নয়নশীল দেশের শহরগুলোর জন্য এখন শুধু কার্বন নিঃসরণের পাশাপাশি পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
আগে জলবায়ু নীতির মূল লক্ষ্য ছিল উষ্ণতা কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস করা। তবে এখন চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় শহর পরিকল্পনায় অ্যাডাপটেশন বা ‘অভিযোজন’ কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশ্বের অনেক শহর ইতোমধ্যে উপকূল রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শক্তিশালী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলবায়ু সহনশীল ভবন তৈরিতে বিনিয়োগ করছে।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক উপকূল রক্ষায় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে, রটারডাম পার্কগুলোকে বন্যার পানি জমার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জলবায়ু ঝুঁকি বাধ্যতামূলকভাবে বিবেচনায় নিচ্ছে।
শহরগুলোর সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হচ্ছে বন্যা। দ্রুত নগরায়ণে জলাভূমি কমে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই শহর প্লাবিত হচ্ছে। ড্রেনেজ সংকট, অপরিকল্পিত বসতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। এ অবস্থায় অনেক শহর ড্রেন উন্নয়ন, খাল খনন ও কঠোর নির্মাণ নীতিতে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট তাপ ধরে রাখায় শহরগুলো গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি গরম হয়ে উঠছে, যা বয়স্ক মানুষ, শ্রমিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সমাধান হিসেবে শহরগুলো গাছ লাগানো, সবুজ ছাদ তৈরি, উন্নত ভবন নকশা ও কুলিং সেন্টার গড়ে তুলছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট তথ্য, আবহাওয়া পূর্বাভাস ও মোবাইল সতর্কবার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্যোগ বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থায়ন সংকট এখনও বড় বাধা। তাই জলবায়ু তহবিল, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চরম আবহাওয়া এখন নতুন বাস্তবতা। তাই শহরগুলোকে দুর্যোগের পরে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। সময়মতো বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যতে এর খরচ আরও বেশি হবে। তথ্যসূত্র : দ্য নেশন

